সংক্ষেপে: অক্সিজেন সিলিন্ডার সোজা করে নিরাপদে রাখুন, রেগুলেটর ও ফ্লো মিটার ঠিকভাবে লাগান, মূল ভালভ ধীরে খুলুন এবং ডাক্তারের দেওয়া মাত্রায় (লিটার/মিনিট) ফ্লো সেট করুন। আগুন, ধূমপান, তেল ও গ্রিজ সিলিন্ডার থেকে দূরে রাখুন। নিচে ধাপে ধাপে সঠিক নিয়ম দেওয়া হলো।
অক্সিজেন সিলিন্ডার সেটের অংশগুলো
- সিলিন্ডার: চাপযুক্ত মেডিকেল অক্সিজেনের ধাতব বোতল।
- রেগুলেটর ও প্রেসার গেজ: সিলিন্ডারের চাপ কমিয়ে নিরাপদ করে এবং ভেতরে কতটা অক্সিজেন আছে তা দেখায়।
- ফ্লো মিটার: প্রতি মিনিটে কত লিটার অক্সিজেন যাবে তা ঠিক করে।
- হিউমিডিফায়ার বোতল: অক্সিজেনে আর্দ্রতা যোগ করে, যাতে নাক ও গলা কম শুকায়।
- নাসাল ক্যানুলা বা মাস্ক: রোগীর নাক বা মুখে অক্সিজেন পৌঁছায়।
ধাপে ধাপে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়ম
- সিলিন্ডার সোজা করে স্ট্যান্ড বা ট্রলিতে রাখুন, অথবা দেয়াল বা খাটের সাথে বেঁধে রাখুন যাতে পড়ে না যায়।
- হাত পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। রেগুলেটর, ভালভ বা সংযোগে কখনো তেল, গ্রিজ বা ক্রিম লাগাবেন না।
- রেগুলেটর সিলিন্ডারের ভালভের সাথে শক্ত করে লাগান। ঠিকভাবে না বসলে জোর করবেন না, সরবরাহকারীকে জিজ্ঞেস করুন।
- হিউমিডিফায়ার বোতলে ডিস্টিলড বা ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি দাগ পর্যন্ত দিন, তারপর ফ্লো মিটারে লাগান।
- মূল ভালভ ধীরে ধীরে ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে খুলুন এবং প্রেসার গেজে চাপ দেখে নিন।
- ফ্লো মিটার ঘুরিয়ে ডাক্তারের দেওয়া মাত্রায় সেট করুন। হিউমিডিফায়ারে বুদবুদ উঠলে বুঝবেন অক্সিজেন যাচ্ছে।
- নাসাল ক্যানুলা নাকে বা মাস্ক মুখে আরামদায়কভাবে লাগান।
- ব্যবহার শেষে আগে মূল ভালভ বন্ধ করুন, ফ্লো মিটারে থাকা অক্সিজেন বের হয়ে গেলে ফ্লো মিটার বন্ধ করুন।
কত লিটার অক্সিজেন দেবেন?
অক্সিজেনের মাত্রা রোগীর অবস্থা অনুযায়ী শুধু ডাক্তারই ঠিক করবেন। নিজে থেকে মাত্রা বাড়াবেন বা কমাবেন না। কিছু রোগীর, যেমন দীর্ঘমেয়াদি সিওপিডি রোগীর, প্রয়োজনের বেশি অক্সিজেন ক্ষতিকর হতে পারে। পালস অক্সিমিটার দিয়ে নিয়মিত অক্সিজেনের মাত্রা (SpO2) দেখুন এবং ডাক্তারের দেওয়া লক্ষ্য মাত্রা মেনে চলুন। শ্বাসকষ্ট বাড়লে, ঠোঁট নীল হলে বা রোগী বিভ্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে যান বা ৯৯৯ এ কল করুন।
লিক বা সমস্যা হলে কী করবেন
- হিস হিস শব্দ হলে বা গ্যাস বের হচ্ছে মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে মূল ভালভ বন্ধ করুন।
- জানালা-দরজা খুলে দিন এবং আশেপাশের আগুন, চুলা ও বৈদ্যুতিক সুইচ থেকে দূরে থাকুন।
- সংযোগস্থলে সাবান-পানি লাগালে বুদবুদ উঠলে সেখানে লিক আছে। নিজে মেরামত না করে সরবরাহকারীকে ফোন করুন।
- গেজ খুব নিচে নেমে গেলে বা ফ্লো না এলে অতিরিক্ত সিলিন্ডার ব্যবহার করুন এবং রিফিলের ব্যবস্থা করুন।
বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের নিরাপত্তা
অক্সিজেন নিজে জ্বলে না, কিন্তু আগুনকে অনেক দ্রুত ও তীব্রভাবে জ্বলতে সাহায্য করে। তাই এই সতর্কতাগুলো মানুন:
- সিলিন্ডারের ঘরে ধূমপান, মোমবাতি, মশার কয়েল বা খোলা আগুন রাখবেন না। খোলা আগুন থেকে অন্তত ৩ মিটার দূরে রাখুন।
- রান্নাঘর, চুলা, হিটার ও সরাসরি রোদ থেকে দূরে, বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে রাখুন।
- বডি স্প্রে, রুম স্প্রে, পেট্রোলিয়াম জেলি বা তেলযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করবেন না। ঠোঁট বা নাক শুকালে পানিভিত্তিক লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করুন।
- সিলিন্ডার কম্বল, পর্দা বা খাটের নিচে ঢেকে রাখবেন না এবং শিশুদের নাগাল থেকে দূরে রাখুন।
- সিলিন্ডার গড়িয়ে বা টেনে নেবেন না, ট্রলিতে করে সরান।
আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের হোম অক্সিজেন সেফটি গাইড (ইংরেজি) পড়ুন।
সিলিন্ডার কতক্ষণ চলবে ও রিফিল
একটি সিলিন্ডার কতক্ষণ চলবে তা নির্ভর করে সিলিন্ডারের আকার, ভরার চাপ ও প্রতি মিনিটের ফ্লো রেটের উপর। প্রেসার গেজ নিয়মিত দেখুন এবং অক্সিজেন শেষ হওয়ার আগেই রিফিল করুন। Peace Oxygen ঢাকার নতুন বাজারে আমাদের দোকানে সিলিন্ডার রিফিল করে, ঢাকার বাইরে রিফিল সেবা নেই। বিস্তারিত: অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল গাইড।
অল্প দিনের জন্য প্রয়োজন হলে ঢাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার ভাড়া নিতে পারেন, আর দীর্ঘদিনের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার ফুল সেট কেনা সাশ্রয়ী হতে পারে। প্রয়োজনে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন: 01719-677350।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
রেগুলেটর ও ফ্লো মিটার লাগানোর পর মূল ভালভ ধীরে ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে খুলুন, গেজে চাপ দেখুন, তারপর ফ্লো মিটারে ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা সেট করুন। বন্ধ করার সময় আগে মূল ভালভ, পরে ফ্লো মিটার বন্ধ করুন।
বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে, সোজা করে বেঁধে বা স্ট্যান্ডে রাখুন। রান্নাঘর, চুলা, হিটার, সরাসরি রোদ ও খোলা আগুন থেকে দূরে রাখুন।
ডিস্টিলড পানি বা ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পরিষ্কার পানি দাগ পর্যন্ত দিন। পানি প্রতিদিন বদলান এবং বোতল নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
না। অক্সিজেনের মাত্রা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করুন। মাত্রা বাড়িয়েও শ্বাসকষ্ট না কমলে দ্রুত ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।




















