
সংক্ষেপে: ফুসফুসের ক্যান্সার হলো ফুসফুসের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ এটি। ধূমপান সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, তবে যারা কখনো ধূমপান করেননি তাদেরও হতে পারে। শুরুর দিকে প্রায়ই কোনো লক্ষণ থাকে না, তাই দীর্ঘদিনের কাশি বা কাশির সাথে রক্তকে অবহেলা করবেন না।
ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ
- তিন সপ্তাহের বেশি কাশি, বা পুরনো কাশির ধরন বদলে যাওয়া।
- কাশির সাথে রক্ত আসা।
- শ্বাসকষ্ট বা বুকে শাঁ শাঁ শব্দ।
- বুকে বা কাঁধে ব্যথা, যা কাশি বা গভীর শ্বাসে বাড়ে।
- গলা ভেঙে যাওয়া বা কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া।
- অকারণে ওজন কমা ও ক্ষুধামন্দা।
- অতিরিক্ত ক্লান্তি।
- বারবার বুকে সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া।
- ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে হাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা বা জন্ডিস।
এই লক্ষণগুলো অন্য রোগেও হতে পারে। তবে তিন সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে বা কাশির সাথে রক্ত এলে দ্রুত ডাক্তার দেখান, বিশেষ করে আপনি ধূমপায়ী হলে। বাংলাদেশে মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা ও চিকিৎসা হয়।
কারণ ও ঝুঁকি
- ধূমপান: সিগারেট ও বিড়ি সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। যত বেশি দিন ও বেশি পরিমাণে ধূমপান, ঝুঁকি তত বেশি।
- পরোক্ষ ধূমপান: অন্যের ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়া।
- ঘরের ভেতরের ধোঁয়া: বাতাস চলাচল ছাড়া কাঠ, খড় বা কয়লা পোড়ানো রান্নার ধোঁয়া।
- বায়ুদূষণ।
- কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি: অ্যাসবেস্টস, সিলিকা ও কিছু রাসায়নিক।
- রেডন গ্যাস, পারিবারিক ইতিহাস ও আগে বুকে রেডিয়েশন থেরাপি।
ধূমপান ছাড়লে, এমনকি অনেক বছর ধূমপানের পরও, সময়ের সাথে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রকারভেদ
| প্রকার | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সার | সবচেয়ে সাধারণ, মোট রোগীর প্রায় ৮৫%; তুলনামূলক ধীরে বাড়ে |
| স্মল সেল লাং ক্যান্সার | প্রায় ১৫%; ধূমপানের সাথে বেশি সম্পর্কিত এবং দ্রুত ছড়ায় |
কিভাবে নির্ণয় করা হয়
ডাক্তার সাধারণত বুকের এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান করেন। নিশ্চিত হতে কফ পরীক্ষা এবং ব্রঙ্কোস্কোপি বা সুঁই দিয়ে বায়োপসি করা হয়। ক্যান্সার কতটা ছড়িয়েছে তা বুঝতে পেট-সিটি সহ অন্যান্য পরীক্ষা লাগতে পারে। দীর্ঘদিনের ধূমপায়ীদের জন্য কিছু দেশে লো-ডোজ সিটি স্ক্রিনিং করা হয়, এ বিষয়ে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন।
চিকিৎসা
চিকিৎসা ক্যান্সারের ধরন, পর্যায় ও রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে আছে অপারেশন, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি। শুরুর দিকে ধরা পড়লে চিকিৎসার সুযোগ ও ফলাফল দুটোই ভালো হয়। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (অনকোলজিস্ট) নেবেন।
শ্বাসকষ্টের কারণে কিছু রোগীর বাসায় অক্সিজেন লাগে। ডাক্তার পরামর্শ দিলে অক্সিজেন সিলিন্ডার বা অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর ব্যবহার করা যায়, আর পালস অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা দেখা যায়। ফুসফুসের অন্যান্য ক্ষতি নিয়ে জানতে পড়ুন ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী হয় (ইংরেজি)।
ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়
- ধূমপান করবেন না, করলে আজই ছাড়ার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের সাহায্য নিন।
- পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলুন, বাসা ও গাড়ি ধূমপানমুক্ত রাখুন।
- রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন এবং সম্ভব হলে ধোঁয়াবিহীন চুলা ব্যবহার করুন।
- কর্মক্ষেত্রে ধুলা ও রাসায়নিক থেকে বাঁচতে সুরক্ষা সরঞ্জাম ও মাস্ক ব্যবহার করুন।
- বায়ুদূষণ বেশি থাকলে বাইরে মাস্ক পরুন।
- ফল ও সবজিযুক্ত সুষম খাবার খান এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
শুরুর দিকে প্রায়ই কোনো লক্ষণ থাকে না। প্রথম দিকের সাধারণ লক্ষণ হলো তিন সপ্তাহের বেশি কাশি, কাশির সাথে রক্ত, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা।
হ্যাঁ। পরোক্ষ ধূমপান, রান্নার ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, রেডন, অ্যাসবেস্টস ও পারিবারিক ইতিহাসের কারণেও হতে পারে।
শুরুর দিকে ধরা পড়লে অপারেশন ও অন্যান্য চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায়। দেরিতে ধরা পড়লে চিকিৎসার লক্ষ্য হয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনমান উন্নত রাখা।
বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, কফ পরীক্ষা এবং ব্রঙ্কোস্কোপি বা বায়োপসি। কোন পরীক্ষা লাগবে তা ডাক্তার ঠিক করবেন।


